“বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদ তুলুন,নারীকে সম্মান করুন”

বিদ্রহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের সেই উক্তি দিয়ে শুরু করা যায়,“এই বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যানকর,অর্ধেক তার করিয়াছে নারী,অর্ধেক তার নর”। কিন্তু আজ এ কথাটি কে বিশ্বাস করে ? আর করলে ও নারীরা আজ সবদিক দিয়ে অবহেলিত । তারা আজ পারছে না সবার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে,পারছে না তাদের ন্যায্য অধিকার। এর জন্য দায়ী কারা আপনারা কি জানেন-? আমি মনে করি এর জন্য দায়ী তারা, যারা আজ ঘরথেকে শুরু করে মাঠ প্রর্যায়,অফিস-আদালত,বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান,রাস্তা-ঘাট, যানবাহন ইত্যাদি স্থানে নারীদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে চালায় নির্মম অত্যাচার । ্পুরুষরা যদি আসলে মন থেকে এই বর্বরতা দুর করতে না পারে তাহলে এর সমাধান কোন দিন ও হবে না । বিশেষ করে পোশাক কারখানা , এন জি ও,কর্পোরেট অফিস ও প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান গুলোতে নারীরা বেশি পরিমানে যৌন হয়রানির শিকার হয়। এইসব প্রতিষ্ঠানে নারীদেরকে বিভিন্ন আঙ্গিকে ও কৌশলে যৌন হয়রানির শিকার করা হয়। নারীরা বুঝেও অসহায়, কিছু বলতে পারে না , ফলে তারা গোপনে নিজের জীবনকে করে তুলে বিপন্ন । অনেকে নারীদের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বলেন- মিষ্টি খোলামেলা পরিবেশে রাখলে মাছি যেমন লোভে পরে, নারীরাও তাই।
পুরুষের মানসিকতা পরিবর্তন আনতেই হবে তা না হলে আমাদের দেশে নারী সমাজে সমতার সাথে বেঁচে থাকার অসম্ভব হয়ে পরবে।পরিবারে কর্মজীবী নারীদের অবদান অস্বিকার করা যাবে না কিন্তু তার পরেও আমরা তাদেরকে মুল্যায়ন করি না । করবে কি করে সমাজ পুরুষ দ্বারা শাসিত । সভ্যতার এই যুগেও একজন নারী স্বাধীনভাবে রাস্তা – ঘাটে একা চলতে পারে না , কারন সব বয়সের পুরুষ কোন না কোন খারাপ মন্তব্য করে বসে । আমি এই মানসিকতার পরিবর্তনের কথা বলছি । আমরা সমতার কথা বলি ,দৃষ্টি ভঙ্গি পরিবর্তন করি না তা হলে কিভাবে সমতা আসবে ।
আসলে পুরুষরা নিজেদের বদলাতে না পারলে একটা সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরী হবে না।পুরুষদের প্রকৃত শিক্ষাটা আসে নারীদের কাছ থেকে ,তাই নারীকে অসম্মান করলে এ শিক্ষার মূল্য কোথায়-?পুরুষরা কোন না কোন পরিবারে জন্ম গ্রহন করে, তাদের জন্ম হয় নারীদেরেই গর্ভে । তাই মানষিকতা হতে হবে সুন্দর ও অমায়িক।

মেরিনা খানম
ফোকাল পয়েন্ট