প্রতিবাদ শুরু করুন, লুকানো বন্ধ করুন

বিশ্বজুড়ে নারীদের কর্মক্ষেত্রে হয়রানি অতি পুরণো এক সমস্যা। বাংলাদেশে নারীরা প্রাতিষ্ঠানিক কর্মক্ষেত্রে যেভাবে এগিয়ে আসছে হয়রানির মাত্রাও সেভাবে বাড়ছে। ধর্ষণের মত ঘটনাও কখনো কখনো এদেশে অলক্ষ্যে থেকে যায়। কেউ হয়তো ভাবতে পারেন যে, কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির প্রতিবাদ অতিরঞ্জিত একটি বিষয়। কিন্তু তিনি কি ঠিক ! যদি এসব বিষয় দৃষ্টির আড়ালে থেকে যায় তবে ঘটনার মাত্রা ও ব্যাপকতা আরো বিস্তৃত হবে। যৌন হয়রানির ঘটনা নিরোধে হাইকোর্ট ২০০৯ সালে একটি গাইডলাইন ইস্যু করে। কিন্তু সেটা কর্মক্ষেত্রে নারী নিগ্রহ বন্ধ করতে পারেনি। পোষাক কারখানা থেকে কর্পোরেট চাকুরি – সর্বত্র আমরা যৌন হয়রানির ঘটনা প্রত্যক্ষ করে থাকি। তবে বেশির ভাগই ক্ষেত্রেই কোন রিপোর্ট বা প্রতিবেদন হয় না। কিন্তু কেন ?  কারণ, আমরাই ! আমাদের স্বভাব ! এসব ঘটনায় আমরা নিলর্জ্জের মত আঙ্গুল তুলি ঘটনার শিকার নারীর চরিত্রের দিকে ! যখন আমরা যৌন হয়রানির  কোন ঘটনা শুনি তখনি আমরা জানতে চাই ঘটনার শিকার নারী কি ধরণের পোষাক পরিধান করেছিল। সে কি পরিশিলিত পোষাক পরিধান করেছিল? তার চরিত্র এবং ভাবভঙ্গী কি যথাযথ ছিল? সে কি শালীন ছিল। অতপরঃ আমরা ঘটনার শিকার নারীকে সার্টিফিকেট দিয়ে থাকি -“তার নৈতিক চরিত্রের ঘাটতি আছে।” আমরা ঘটনার শিকার নারীকে আঘাতে রক্তাক্ত করি এবং রায় দিয়ে বলি “সে নিজেই তো হয়রানির ব্যবস্থা করে রেখেছে।” সমস্ত দায়িত্ব হচ্ছে হয়রানির শিকার নারীর, আর কারো নয়। যদি লোভনীয় কোন খাবার আপনি ঢাকনা ছাড়া রেখে দেন তো মাছি তা’ খাবেই। এখানে মাছির কি কোন দোষ আছে ?  না ! লোভনীয় বস্তুকে আব্রুর ভেতর রাখা তার দায়িত্ব। এসব কারণে একজন নারী যখন যৌন হয়রানির শিকার হন তখনো তিনি কোন কথা বলতে চান না। সে নিজের হতাশা লুকানোর চেষ্টা করে। এসব কারণে সে বিষাদগ্রস্ত হয়, তার সৃষ্টিশীলতা হ্রাস পায় এবং কখনো কখনো সে প্রাতিষ্ঠানিক কর্মক্ষেত্র ত্যাগ করে।
প্রায় ১০০ বছর আগে বেগম রোকেয়া ডাক দিয়ে ছিলেন “জাগো গো ভগিণী !” কিন্তু হায় ! এখনো আমরা জেগে উঠিনি। উঠেছি কি ?
কিন্তু সময় বদলাবে। তখন থেকে কি আমরা (নারীরা) পরিবর্তনের জন্য অপেক্ষা করে আছি ?  না ! সময়কেই আমাদের পরিবর্তন করা উচিত। যে কোন ধরনের যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত। এটার বিরুদ্ধে আমাদের কথা বলা উচিত। আজ একজন নারী যদি যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তবে সে আরো শতাধিক মানুষকে এর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে প্রণোদিত করে। আমাদের প্রয়োজন দৃষ্টান্ত তৈরি করা। দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে আমাদের এগিয়ে যাওয়া উচিত। আমাদের দরকার হবে সেসব মুখ বন্ধ করানো যারা ক্ষতিগ্রস্তকেই লজ্জিত ও অভিযুক্ত করতে উচ্চকিত। যখন, যেভাবে আমরা হয়রানির ঘটনা প্রত্যক্ষ করি না কেন সেটার বিরুদ্ধে আমাদের কন্ঠস্বরকে জোরালো করা আবশ্যক। এটা সমাজকে একটা বার্তা দেবে যে কারো সাথে যৌন হয়রানির ঘটনায় কোন নারী অলস বসে থাকবে না। এতে সমাজ এটা অনুধাবন করবে যে যৌন হয়রানির কোন ঘটনা অলক্ষ্যে এবং প্রতিবাদহীনভাবে মিইয়ে যাবেনা। আমাদের বোনদের পাশে আমাদের দাঁড়াতে হবে। গোপন করা এবং লুকানো অপরাধকে আরো অনেক বেশি উসকে দেবে। একজন যৌন নিগ্রহকারী আরো একজনকে নিগ্রহ করার সাহস দেখাবে। এটা নিগ্রহকারী এবং সমাজ কারো কোন কল্যাণ করবে না।  জেরালো এবং ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ, যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগই একটি নারী বান্ধব, সুস্থ এবং সৃজনশীল কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে। অন্তর্ভুক্তি, আত্ম নিয়ন্ত্রণ আর সুসংহত থাকার চেষ্টা এসব নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

 

Ms. Saira Banu

Senior Coordinator

Community Wellness Program

leave a comment